From polio and poverty to years of abuse, Sharmila defied every obstacle to win Commonwealth Games gold, inspiring millions with her courage.
Bong 24 Desk : ৪০ বছরের শর্মিলা ধানকরের জীবন যেন এক অনবদ্য সংগ্রামের কাহিনি। দারিদ্র্য, শারীরিক প্রতিবন্ধকতা, পারিবারিক নির্যাতন— সব বাধা পেরিয়ে তিনি আজ ভারতের গর্ব।
হরিয়ানার মহেন্দ্রগড়ের এক দরিদ্র কৃষক পরিবারে জন্ম শর্মিলার। মাত্র দুই বছর বয়সে পোলিও আক্রান্ত হয়ে তাঁর বাঁ পা স্থায়ীভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। দৃষ্টিহীন মা ও সীমিত আয়ের পরিবারে বড় হওয়ায় ছোটবেলা থেকেই অভাব ছিল নিত্যসঙ্গী।
১৯ বছর বয়সে তাঁর বিয়ে হয়। কিন্তু বৈবাহিক জীবন সুখের হয়নি। যৌতুকের দাবি, কন্যাসন্তান জন্ম দেওয়া এবং নানা অজুহাতে বছরের পর বছর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হন তিনি। একসময় দুই মেয়েকে নিয়ে সেই সম্পর্ক থেকে বেরিয়ে আসার কঠিন সিদ্ধান্ত নেন।
নতুন করে জীবন শুরু করেন শর্মিলা। দ্বিতীয় স্বামী অজিত সিংয়ের উৎসাহে ৩৪ বছর বয়সে প্যারা অ্যাথলেটিক্সে প্রশিক্ষণ শুরু করেন। খেলাধুলার খরচ চালাতে পরিবার নিজেদের বাড়িও বিক্রি করে দেয়। তবু তিনি স্বপ্ন ছাড়েননি।
পরিশ্রমের ফল মিলতে শুরু করে। জাতীয় ও আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় একের পর এক পদক জয়ের পর ২০২৬ কমনওয়েলথ গেমসে গ্লাসগোতে মহিলাদের শট পুট F57 বিভাগে ৯.৮১ মিটার নিক্ষেপ করে স্বর্ণপদক জেতেন। এই সাফল্যের মাধ্যমে তিনি ভারতের প্রথম কমনওয়েলথ গেমস প্যারা-অ্যাথলেটিক্স স্বর্ণজয়ী হন এবং দীর্ঘ ২০ বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটান।
শর্মিলা ধানকরের গল্প শুধু একটি স্বর্ণপদকের নয়; এটি সাহস, আত্মবিশ্বাস এবং হার না মানা মানসিকতার এক উজ্জ্বল উদাহরণ। দারিদ্র্য, নির্যাতন ও অসংখ্য প্রতিকূলতাকে জয় করে তিনি প্রমাণ করেছেন— অদম্য ইচ্ছাশক্তি থাকলে অসম্ভবকেও সম্ভব করা যায়।

COMMENTS